11th April, 2014
1:30 at night.

অনেক দিন পর লিখতে বসেছি। বেশ অনেক দিন পর। ডিপার্টমেন্টের দায়িত্ব নেবার পর থেকে চোখ বন্ধ করলেই ডিপার্টমেন্টকে দেখতে পাই, দেখতে পাই এটা নাই সেটা নাই। হিসাব করি এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে। নিজের জীবনটা একটু হলেও বোধকরি কেয়ার পাচ্ছে না।

জীবন, হু — মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমার ডায়েরী গুলো আমার জীবন।। আমার ভাবনার পাতা গুলোর প্রতিচ্ছবি তো ওগুলো-ই। অথচ সময়ের অভাবেই আমার ভাবনা গুলো কে পাতা বন্ধী করতে পারছি না। ভীষন দুঃখিত হওয়া উচিত আমার, ভীষন।। আমি শুধু দুঃখিতই না ব্যাথিত, আমার বাসা থেকে আমার ৫ টা ডায়েরী হারিয়ে গেছে। ওগুলো আমার ৭ বছরের জীবন। কে নিলো, কেনোই বা নিলো। এটা ঠিক না। সত্যি-ই ঠিক না। যে নিয়েছে সে জানে না ওটার গুরুত্ব। কিভাবে ফিরে পাবো ওগুলো।।

একটা থিম মিউজিক বাজছে কম্পিউটারে, এটা একটা হিন্দিগানের থিম মিউজিক। বেশ Soothing. মাঝে মাঝে একটা মেয়ে কন্ঠ একটা সুর তৈরি করছে Like another musical instrument. এই কন্ঠটা সম্ভবত লতা মঙ্গেসকারের। এটা মহাব্বাতিন নামে একটা মুভি আছে তার থিম মিউজিক। বেশ বড় এই থিম মিউজিকটা, একটা মিউজিক কালেকশনে পেলাম। সেই তখন থেকে বাজছে। রিপিট এনাবেল করে রেখেছি, বেজেই যাচ্ছে। স্যাড মিউজিক শুনতে ভালো লাগে না। এটা স্যাড মিউজিক তারপর ও শুনছি। কথা নেই তাই অন্যরকম তবে এগুলোর পরেও শুনছি কারন, কারন হঠাৎ করেই ব্রেনের কিছু সেল এক্সাইটেড হয়ে গেছে, সেগুলো স্মৃতির ঝাপটা সৃষ্টি করছে। লাইট বন্ধ করে ঘর অন্ধকার করে দিয়েছি। চারপাশের পরিবর্তিত ম্যাটেরিয়ালিস্টিক পৃথিবীটা ঢেকে দিয়েছি অন্ধকারে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে পিছনের ফেলে আসা দিন গুলো। ছেড়ে আশা আমার চারপাশটা। দেখতে পাচ্ছি। ঠিক যেন চোখের সামনে। মজার ব্যাপার কি…, সুন্দর সুন্দর বিষয় গুলোই চোখের সামনে ভেসে আসছে অথচ সত্যি বলতে কি সময়টা কিন্তু শুধুই সুন্দর ছিলো বললে ভুল হবে, সময়টা চ্যালেঞ্জিং ও ছিলো। কিন্তু ব্রেন শুধুই সুন্দর সুন্দর দৃশ্যগুলোর ফ্লাশ দিচ্ছে। হা হা, জাদু।

২০০০ সালের কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের নবীন স্টুডেন্ট। ভালো সাবজেক্ট আর দেখতে সুন্দর হলেও পরিবেশ ভালো লাগছিলো না তাই প্রথম ছয় মাস বাসা থেকে গিয়েই ক্লাস করতাম। বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর, লং রুটের গাড়িতে চড়ে ২:৩০ ঘন্টার মত লাগত। সকাল সারে ছয়টার দিকে বাসে উঠতাম গিয়ে নয়টার ক্লাস ধরতাম। আবার দুপুর ৩টার বাস ধরে বাসায় চলে আসতাম। তখন বাস ভাড়া ছিলো ৬০ টাকা, আমি স্টুডেন্ট ভাড়া দিতাম ৩০ টাকা (এখন ভাড়া অনেক সম্ভবত ২৩০ বা তারও বেশি হতে পারে)। ৩০ টাকা নিতে চাইতো না প্রথম প্রথম। পরে নিতো। বাস একটাই, নাম “পালকি”। অনেক বড় আর বেশ সুন্দর নতুন বাস ছিলো ওটা। আর নামের সাথে মিল রেখে বেশ হেলে দুলেই চলত। কোন এক অজানা কারনে কন্ট্রাকটর আমাকে পছন্দ করত। ৩০ টাকা দিলে বলত, এটা দিলে কি হয় , বলে নিয়ে নিতো। কিন্তু অনেকেই আছে যাদের কাছ থেকে নিতো না দেখেছি। বেশ গ্যাঞ্জাম হতো।

সকালে গিয়ে আমার কাজ ছিলো একটা নির্ধারিত আসনে বসে পড়া। আমি দেখেছি, ওই বাসে অনেক চাকুরীজীবিরা চলাচল করত প্রতিদিন। তাদেরও আসন নির্ধারিত ছিলো। যেনো একটা অফিসিয়াল বাস যেখানে সবার আসন নির্ধারিত থাকে।

হিন্দি মিউজিক পছন্দ করি না তাই ওই সময়ে হিন্দি মিউজিক শোনা হতো না। বাসার পাশে পুজা মন্ডপ ছিলো, পুজার সময় খুব জোরে লাউড স্পিকারে হিন্দি মিউজিক বাজতো, ওই শোনা। মাঝে মাঝে পিকনিক বা টুরে বন্ধুরা লাউড স্পিকারে বাজাতো, ওই একটু। তখন ছিলাম ব্যান্ড মিউজিকের একনিষ্ঠ ভক্ত। বাসায় সব ক্যাসেট ছিলো বাংলাদেশী ব্যান্ড এল আর বি, মাইলস, আর্ক, ফিলেংস এর। সাথে ছিলো, ইংলিশ মিউজিক কালেকশন, এভার গ্রীন লাভ সং। হিপ-হপ মিউজিক। তবে মনে পড়ে কোন হিন্দি গানের ক্যাসেট ছিলো না। রবীন্দ্র সঙ্গীতের ক্যাসেট থাকলেও কক্ষনো শুনতাম না (বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কালীন কোন একটা সময়ে আমার এই মন ভাবের পরিবর্তন হলো, রবীন্দ্র সঙ্গীতে প্রান পেলাম, পেলাম যেনো প্রানের খোরাক, সে কথা অন্য দিন বলবো  )।

সাত সকালে উঠে রিকশা করে পালকিতে গিয়ে টিকেট না কেটেই বসে পড়তাম। চোখ ঢুলু ঢুলু, হেল্পারের কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া ডাকে আস্তে আস্তে পালকি চলা শুরু করত আর সাথে সাথেই বেজে উঠত গান। মহাব্বাতিন মুভিটার গান। মুভির প্রতিটি গান একের পর এক বেজে যেতো। প্রতি দিন ঠিক একই ভাবে। জানি না ওদের আর কোন ক্যাসেট ছিলো কি না…! কিন্তু ওরা একটা ক্যাসেটই প্রতি দিন বাজাতো। দীর্ঘ ছয়টা মাস যাওয়া আসা করেছি। সকালেই ঘুমুতে ঘুমুতে মহাব্বাতিন মুভির গান শুনতে শুনতে যেতাম। একই গান, বিরক্তি লাগবার কথা। লেগেছিলো কিনা বুঝতে পারছি না বরং এখন উল্টোটা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে হ্যাপি টাইম ছিলো ওটা, হা হা। হুম…ব্রেইন তখনকার অভিব্যাক্তির অংশটুকু বোধহয় মুছে ফেলেছে। That’s the tricky game of the Brain.

বাই দ্যা ওয়ে, you may try this theme at night alone, good piece of relaxation element.

Jatin – Lalit & Anand Bakshi – Mohabbatein Love Themes (Instrumental)

Powered by www.Mp3Olimp.net

  

FB তে মন্তব্য করতে এখানে লিখুন (ব্লগে করতে নিচে) :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

 

Mountain View
নিচের Button গুলো Click করে কানেকটেড থাকতে পারো।
April 2019
S M T W T F S
« May    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930